প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 25, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 25, 2026 ইং
সিসিটিভির সূত্র ধরে ভাঙল আন্তঃজেলা সিএনজি চোর চক্র, মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার ২

চুরির কাজে ব্যবহৃত সিএনজি উদ্ধার, মূল আসামির বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা
মোঃ সাইফুল ইসলাম, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় একটি সিএনজি অটোরিকশা চুরির ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করে আন্তঃজেলা চোর চক্রের মূলহোতাসহ দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশাও জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. এরশাদ (৩৮) ও তাঁর সহযোগী মো. শামিম মাতব্বর তামিম (৩০)। আনোয়ারা থানা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শিলাইগড়া এলাকার বাসিন্দা ও পেশায় সিএনজি চালক মফজল আহমদ গত ১১ জুলাই রাতে তাঁর পারিবারিক মালিকানাধীন সিএনজি অটোরিকশাটি পরিচিত এক ব্যক্তির বাড়ির উঠানে রেখে যান। পরদিন ভোরে গিয়ে দেখেন বাড়ির গেট ও গাড়ির তালা ভেঙে দুর্বৃত্তরা প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের সিএনজি অটোরিকশাটি চুরি করে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় গত ২৩ জুলাই আনোয়ারা থানায় পেনাল কোডের ৪৫৭/৩৮০ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চোর চক্রকে শনাক্ত করে। পরে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএম-এর সার্বিক নির্দেশনায়, আনোয়ারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান-এর তত্ত্বাবধানে এবং আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ জুনায়েত চৌধুরী ও ওসি (তদন্ত) মো. মজনু মিয়া-র নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল অভিযান চালায়। অভিযানে গত ২৪ জুলাই রাতে চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ শেরশাহ কলোনি ও বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের নিচ থেকে আন্তঃজেলা চোর চক্রের মূলহোতা মো. এরশাদ এবং তাঁর সহযোগী মো. শামিম মাতব্বর তামিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে চুরির ঘটনায় ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশা জব্দ করা হয়, যা ঘটনার পরপরই সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত হয়েছিল। আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ জুনায়েত চৌধুরী বলেন, সিএনজি চুরির ঘটনায় জড়িত আন্তঃজেলা চোর চক্রকে শনাক্ত করে দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি সিএনজিও উদ্ধার করা হয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া মূল আসামি মো. এরশাদের বিরুদ্ধে রাঙ্গামাটির কাউখালী, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, হাটহাজারী, রাউজান ও চান্দগাঁও থানাসহ বিভিন্ন থানায় সিঁধেল চুরি ও মাদক আইনে অন্তত ছয়টি মামলা রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আরও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। পুলিশের দাবি, এই অভিযানের মাধ্যমে একটি সক্রিয় আন্তঃজেলা সিএনজি চোর চক্রের কার্যক্রমে বড় ধরনের ধাক্কা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে চক্রের পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ প্রবাসী নিউজ টিভি